ভালবাসার পবিত্র বন্ধন (love story)

অাপনারা একটু পড়বেন, এবং বুঝতে চেষ্টা করবেন
.
সবচেয়ে মধুর সম্পর্ক হচ্ছে
স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক! সবচেয়ে সুখের
জীবন হচ্ছে স্বামী স্ত্রীর জীবন!
সবচেয়ে পবিত্র ভালবাসা হচ্ছে
স্বামী স্ত্রীর ভালবাসা!
.
বিয়েটা প্রত্যেক নর-নারীর জন্য ফরজ!
প্রত্যেকটা মানুষেই জীবনের কোন এক
সময়ে এসে নিজেকে একাকি ভাবে!
তাই তার জীবন সঙ্গী হিসেবে
কাওকে নাহ কাওকেই বেছে নেই
প্রত্যেক নর- নারী! তারা বিয়ে নাম
বাধঁনে বাধিঁত হয়!
সবাই জীবন সঙ্গী হিসেবে ভালো
কাওকে বেছে নেই! তেমনি অামিও
নিয়েছি!
.
অামি কাওসার অাহমেদ! অামি ও
মিতু স্বামী স্ত্রী! অামরা
ভালোবেসে বিয়ে করি তবুও
অামাদের মাঝে অনেক ভালবাসা!
বিয়ের প্রায় ৫ বছর হয়েগেছে তবুও
অামাদের ভালবাসা প্রায় অাগের
মতোই রয়েছে! মিতু বড় ঘরের মেয়ে!
পালিয়ে বিয়ে করেছি! অামার
পরিবার মেনে নিয়েছে কিন্তু
তাদের পরিবার অাজও মানতে
পারেনি! তার কারণ অামরা গরিব!
অামি স্বপ্নেও ভাবিনি মিতুর মত এমন
একটা জীবন সঙ্গী অামি অামার
জীবনে পাবো!
.
বিয়ের কিছু দিন পরের ঘটনা!
ভালবেসে তার সঙ্গীনীকে অনেকেই
অনেক কিছুই দেই! তাই অামিও একদিন
মিতুর জন্য পায়ের নুপুর কিনে
সারপ্রাইজ দেই! মিতুকে জরিয়ে ধরে
তার চোখের সামনে নুপুর দিয়ে বলি
এটি তোমার জন্য! ভেবে ছিলাম মিতু
খুশি হবে! কিন্তু খুশি নাহ হয়ে মুখ ভার
করে সামনে থেকে চলে গেল!
ভাবলাম কমদামি বলে হয়তো পছন্দ
হয়নি!নিজেকে খুব নির্লজ্জ লাগছে!
তার ২০ দিন পর বেতন পেয়ে মিতুর জন্য
কমরের বিছা কিনলাম! সেদিনের
মতো অাজকেও মিতুর মন ভার মন
খারাপ! অামি কিছুই বুঝতে পারিনা!
মত্তবিত্ত ফ্যামিলি তাই হইতো অার
ইচ্ছার মূল্য দিতে জানিনা! এভাবে
তার জন্য হাতের চুরি!কানের দুল অারও
অনেক কিছুই দেই কিন্তু কোন দিন সে
জিনিস গুলো হাতে নেইনি! মন
খারাপ করে চলেগেছে অামার
সামনে থেকে! তার সাথে সাথে
অামার মনও অনেক খারাপ হয়েছে!
কিন্তু অামি কি করবো বুঝতে
পারছিনা!
কয়েক মাসপর মিতুর জন্য টাকা জমিয়ে
একটি সোনার হাড় কিনছি!ভাবছিলাম
এটা দেখে মিতু হয়তো অনেক খুশি
হবে! কিন্তু এটা নিয়ে বাড়িতে
যাওয়া মাত্রই মিতু অামার সাথে
ঝগরা লাগছে! কি করবো ঝগরা করে
বাড়ি থেকে মন ভার করে বাহিরে
চলে যাই! অামি জানি অামি রাগ
করলে যেকোন মূল্যেই মিতু তা
ভাঙ্গানোর চেষ্টা করবে!
.
রাত হয়েগেছে সারা দিন অার বাড়ি
যাইনি!মিতু প্রায় ১০০ উপরে ফোন
দিছে কিন্তু একটা ফোনও রিসিভ
করিনি! রাত প্রায় ১২ টার
কাছাকাছি! মা ফোন দিয়ে বলছে
বাড়ি যেতে তাই বাড়িতে গেলাম!
হাত -পা ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া
করলাম! কিন্তু মিতুকে দেখতে পেলাম
নাহ! মা বললো মিতু ঘরে! তাই ঘরে
গেলাম! কিন্তু ঘরে গিয়ে দেখি মিতু
নব বধূর সাজে ঘোমটা দিয়ে কাটে
বসে অাছে! অার তার গায়ে অলংকার
সবকিছু অাছে! তার কাছে যেতেই
মিতু অামার পায়ে পরে গেছে! বলছে
অামাকে তুমি ক্ষমা করে দাও রাগের
মাথায় তোমাকে অনেক কথাই
বলেছি! অামি কিছুই বললাম নাহ
মিতুকে উপরে তুললাম! দেখলাম মিতুর
চোখ দুটো ফোলে গেছে তার মানে
সে সারাদিন কেঁদেছে! এখনও কাঁদছে!
মিতু কেঁদে কেঁদে বলছে অামি
তোমার অলংকার চাইনা অামি শুধুই
তোমাকে চাই! অামি জানি তোমার
এইসব অলংকার অনেক টাকা লাগছে!
তোমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়! তাই
তোমার পরিশ্রমের টাকা দিয়ে
অামি অলংকার পড়তে পারবোনা!
স্বামীই হচ্ছে মেয়েদের অলংকার
স্বামীর!স্বামী চেয়ে বড় অলংকার
পৃথিবীতে মেয়েদের কাছে অার
কিছুই হতে পারেনা! ইসলাম ধর্মে
স্বামীই মেয়েদের সব! অার অামি
অলংকার পরে বাহিরে গেলে হইতো
অনেকে ভালো বলবে! কিন্তু ইসলাম
ধর্মে এটা জায়েজ নাহ! তাই অামি
তোমার দেওয়া অলংকারে খুশি হইনি!
অামি এমনিতেই সুখে অাছি! অামার
শুধু তুমি থাকলেই চলবে! অামি অার
কিছুই চাইনা! মিতু এই কথা গুলো বলছে
অার কাঁদছে! তাই তার কাঁন্না
থামিয়ে তাকে অামার বুকে টেনে
নিলাম!
ও অাল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া
জানাইযে তার মিতু মতো একজন
অামার জীবন সঙ্গী! যে কিনা অামার
দুঃখ কষ্টের ভাগিধার! বড় ঘরের মেয়ে
হয়েও তার কোন চাওয়া নেই অামার
কাছে! এটা হইতো অাল্লাহ ভালো
কাজের উপহার হিসেবে দিয়েছে
অামাকে! মানুষের জীবনে কে নাহ
চাই মিতুর মতো এমন স্ত্রী?
অতঃপর ------------

মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ