একটু কানি ভালবাসা (love story)
একটু খানিক ভালবাসা পৃথিবীর সব মানুষকে দুই রকমভাবে বদলে দেয়।
.
১) একটু খানিক ভালবাসার ছোঁয়ায় একজন মানুষ প্রকৃত মানুষ হয়ে যায়।
২) একটু খানিক ভালবাসা না পাওয়ার কারণে একন মানুষ, মানুষ রুপী জানোয়ার হয়ে যায়।
.
আবির সপ্তম শ্রেণীর খারাপ দলের স্টুডেন্টদের মধ্য অন্যতম। সাধারণত স্কুল কলেজে যারা খারাপ স্টুডেন্ট থাকে। তারা একটু বখাটেপনা করে । সবসময় উচ্ছৃঙ্খল থাকে। ক্লাসে ক্যাম্পাসে নেতাগিরী করতে ভালবাসে। কিন্তু আবির এর উল্টো, ও ক্লাসে আসে সবার আগে। বসে একদম লাস্ট বেঞ্চে। আবির কখনোই বখাটেপনা, উচ্ছৃঙ্খলতা নেতাগিরী কোনকিছু করে না। ও সবসময় নির্বাক হয়ে থাকে। যেন কোন কিছুতে ওর যায় আসে না। প্রতিদিন একটা শার্ট পরে আসে, চুল উষ্কখুষ্ক থাকে গায়ে ময়লা লেগে থাকে। ওর এরকম চলাফেরার জন্য কেউ ওর সাথে বেশী মিশতে চায় না।
.
আবিরদের স্কুলে নতুন ম্যাডাম এসেছে। ম্যাডামের বয়স প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি। আবিরদের নতুন ম্যাডাম সব ক্লাসেই বাংলা ব্যাকরণ সাবজেক্ট পড়ায়। ম্যাডাম যখন ক্লাসে আসে তখন কিছু সময়ের জন্য গম্ভীর হয়ে থাকে। তারপর একদমই ফ্রেন্ডলি ব্যাবহার করে সব স্টুডেন্টের সাথে। ম্যাডাম আবিরদের ক্লাসে প্রথম দিন এসেই স্টুডেন্টদের উদ্দেশ্য করে বলে, আমি শুধু তোমাদের বই পড়াব না। আমি তোমাদের ম্যান্টলটি নিয়ে নাড়াচাড়া করব। তোমাদের ভেতরকার লুকিয়ে থাকা মানুষত্ব জাগিয়ে তুলব। পাঠ্যবই পড়ে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা লাভ করা যায়। কিন্তু মানুষত্ব জাগ্রত করা যায় না। তাইতো বিজ্ঞজন বলে গেছে। প্রাণ থাকলে প্রাণী হয়, কিন্তু মন না থাকলে মানুষ হয় না। ক্লাসের সবব স্টুডেন্ট ম্যাডামের কথা মেনে নেয়। ম্যাডাম যতক্ষণ ক্লাসে থাকে সব স্টুডেন্ট ম্যাডামের কথা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতে থাকে।
.
সপ্তাহে ম্যাডামের ক্লাস তিন দিন। ম্যাডাম যেদিন ক্লাস নেয় সেদিন নব্বই ভাগ স্টুডেন্ট ক্লাসে উপস্থিত থাকে। ম্যাডাম নিজেও নিজেকে উজাড় করে দিয়ে তার ছাত্রদের প্রকৃত সোনার মানুষ রুপে গড়ে তোলার কাজে আত্মতৃপ্তি খুঁজে পায়। ম্যাডাম যখন ক্লাস নেয়, তখন পুরো ক্লাস ঘুরে ঘুরে হাঁটে আর কথা বলে। যেমনটা পরীক্ষার হলে হয়ে থাকে। ম্যাডাম ঘুরে ঘুরে সব স্টুডেন্ট পর্যবেক্ষন করে। ম্যাডাম তার বাগানের সব ফুলকে ফুঁটিয়ে তুলতে চায়। একটি ফুলকে ঝড়ে পরে যেতে দিতে চায় না। ম্যাডাম পরাপর ছয়টা ক্লাসে আবির কে লক্ষ্য করছে। ছেলেটা প্রতিদিন এক জায়গায় এসে বসে থাকে। সবসময় উদাসীন থাকে। ম্যাডাম আবিরের দিকে তাকিয়ে আবিরকে দাড়াঁতে বলে। আবির দারিয়ে যায়। ম্যাডাম জিজ্ঞাস করে নাম কী?
- আবির।
- প্রতিদিন এক জায়গায় বসে থাকো কেন? সবসময় উদাসীন থাকো। পড়া লেখা করার ইচ্ছা নাই? তোমার চুলের কী অবস্থা দেখছো? গায়ে ময়লা জমে আছে গোসল করো না? একটা মানুষ এরকমভাবে থাকতে পারে নাকি?আর তোমার মা বাবাই বা কেমন ছেলের খেলায় রাখতে পারে না।
.
ম্যাডামের কোন কথার উত্তর দিতে পারে না আবির। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। ম্যাডাম আবার জিজ্ঞাস করে বাবা কী করে।
- বাবা নাই। নির্লিপ্ত কন্ঠে জবাব দেয় আবির।
.
বাবা নাই শুনার পর ম্যাডাম একটা ধাক্কা খায়। এবার করুণার সুরে জিজ্ঞাস করে তোমার মা আছে?
- না ম্যাডাম আমার মা বাবা কেউ নাই। আমি কোন দিন আমার মা বাবাকে দেখি নাই।
.
আমি কোন দিন আমার মা বাবা কে দেখি নাই। কথাগুলো শোনার পর ম্যাডামের মাতৃহৃদয় হুহু করে কেঁদে উঠে। কিছুক্ষণ আগে বলা কথায় নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়। মনের ভেতরে ঘন্টা দিয়ে বারি দেয়, আহারে মা বাবা ছাড়া সন্তান কীভাবে থাকতে পারে? ম্যাডাম খুব নরম সুরে জিজ্ঞাস করে, তোমার বাসায় কে কে আছে?তোমার দেখাশোনা করে কে?
- শুধু দাদি আছে আর কেউ নাই। দাদি এক বড়লোকের বাসায় কাজ করে, দাদি আমাকে দেখাশোনা করে।
.
মাতৃহৃদয় অনেক কোমল। এই হৃদয়ে ইমোশনাল কথা সহ্য হয় না। ইমোশনাল কথাগুলো চোখ দিয়ে তরল পানি হয়ে বেরিয়ে যায়। ঠিক এই মুহূর্তে আবিরের ইমোশনাল কথায় ম্যাডামের মাতৃহৃদয়ে ঝড় তুলে। ম্যাডাম নিজের কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলতে চায়। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে বলে, তুমি আমার রুমে এসে আমার দেখা করবা।
.
ম্যাডাম রুমে বসে আছে আবিরের কথা ভাবছে। মা বাবা ছাড়া কীভাবে সম্ভব? নাহ আমার নিজের ছেলের আমি কত খেলায় রাখি তারপরে ঠিক থাকতে চায় না। অনেক ভাবনা চিন্তা করার পর ম্যাডাম সিদ্ধান্ত নেয়। আবিরের মত একটা ফুটন্ত ফুলকে অবেলায় ঝড়ে যেতে দিবে না। ম্যাডাম এই ফুটন্ত ফুল থেকে সুগন্ধ বের করবে। প্রয়োজন হলে ম্যাডাম নিজে মালি হবে।
.
- ম্যাডাম আসবো?
- আবির আসো, আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আবির ম্যাডামের রুমে ঢুকে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। ম্যাডাম আবিরের মুখের দিকে তাকায়। ম্যাডামের গাঁ শিউরে উঠে। এই ছেলেকে আর দশটা ছেলের সাথে তুলনা করা যায় না। এই ছেলের মুখে অনেক কষ্টের রেখা দেখা যায়। মা বাবাকে হারানোর কষ্ট। মা বাবার আদর স্নেহ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কষ্ট। কৈশোর কে আত্মবিসর্জন দেওয়ার কষ্ট। ম্যাডামএকটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কঠিন এক স
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন