চাই তোমাকে আমি জীবনের চেয়েও বেশি (love story)
গাড়ি থেকে নামলাম একটা ফুল দোকানের
সামনে। অথচ আনমনে হাটতে হাটতে দোকান
টাই পাস করে দিলাম!
ভাবছিলাম আমার পৃথিবীর কথা। আমার
পৃথিবী হলো আমার ইতু। অসাধারন এক জাদুর
মালিক এই মেয়েটা। কি এক মোহো তে
সারাক্ষণ আমায় বুদ করে রাখে। কি ঝগড়া আর
কি গুড মোমেন্ট। সব জায়গাতেই মেয়েটা
আমার ব্রেইন টা কে খামচে ধরে রাখে।
।
আজ সেই মায়াবিনীর জন্মদিন। অথচ সকালে
অফিসের জন্য বের হওয়ার আগে ঝগড়া করে
এলাম। মেয়েটা কাদঁছিলো। আমি যে
কাদিঁনি তা না, তবে তা ভিতরে ভিতরে।
ঝগড়ার কারন টা অবশ্য বেশি কিছুনা, ইতু
আমার কাছে শুধু আজকের দিন টা
চেয়েছিলো। বলেছিলো " সামু, তুমি আজ
অফিসে যেয়োনা, আমায় নিয়ে ঘুরতে
বেরোবে।"
আবেদন টা করার ১০০% রাইট ছিলো, কারন
আজ ইতুর জন্মদিন। অথচ হতভাগা এই আমি তা
ভুলেই গিয়েছিলাম। প্রিয়জনের বার্থডে
ডেট ভুলে যাওয়া টা আজ কাল অনেকের
ফ্যাশন, তবে আমার কখনোই এমন টা হয়নি
আগে, আমাদের দুজনের এক সাথে জীবনের
আজ প্রায় ১০ বছর। ৪বছরের প্রেম আর বিয়ে
হলো সে প্রায় ৬ বছর হবে। প্রেমিক লাইফের
প্রথম বছর টা তেই কেবল আমি তার বার্থডে
ডেট ভুলে গিয়েছিলাম, মানে উইশ টা লেট
এ করেছিলাম। ১২.০১ এর জায়গায় ৩.০১ এ
করেছিলাম। সেদিন টার কথা এখন ও মনে
পড়ে। ইতুর যে কি সেই কান্না। তার কান্না
থামাতে লাগলো ১ ঘন্টা। তারপর গুনে গুনে
১৯০০০ বার স্যরি বলার পর সে নরমাল হয়েছে,
ও হ্যা, ১৯০০০ কেনো জানেন?? তখন তার ১৯
বছর পূর্ন হয়েছিলো।
.
আর..
হুম।
১৯০০০ বার স্যরি বলার পুরস্কার টা অবশ্য এর পর
দিন পেয়েছিলাম। কি জানেন? সেদিন
ফার্স্ট ইতু আমার দু ঠোটের অগ্রভাগ টা তার দু
ঠোট দিয়ে ছুঁইয়ে দিয়েছিলো। অদ্ভুদ
অসাধারন মোহো তে পড়ে গিয়েছিলাম।
এতোবার স্যরি বলে মুখ ব্যথা করার পার্ফেক্ট
ঔষধ যে আমি এভাবে পাবো তা জানা
থাকলে তো ১৯ দুগুনে ৩৮ হাজার বার স্যরি
বলতাম, যদি আর এক ডোজ ট্রিটমেন্ট বেশি
পাওয়া যেতো! হা হা।
এর সবই ছিলো, প্রেমিক জীবনের পাগলামি।
।
ওই দিনের পর থেকে আর কোনোদিন ইতুর
বার্থডে ডেট ভুলিনি। অবশ্য ইচ্ছে করেই
ভুলতে চেয়েছিলাম যাতে আবার আমি
স্যরির শাস্তি পাই আর যেনো আবারো
কোনো মধুর কন্ডিশন পাই।
সেই আশায় অবশ্য গুড়েবালি! কারন
সেদিনের পরেই আমায় ম্যাডাম বলে
দিয়েছিলেন আর কোনোদিন তার বার্থডে
ডেট ভুললে আমায় সোজা জমের বাড়ি
পাঠাবেন, মানে জীবনেও আর দু যোগ দুই =
চার হবেনা আমাদের ঠোট।
অতো কড়া কন্ডিশন খাওয়ার শখ আবার আমার
নেই বাবা! তাই প্রতি বছরের এই দিন টায়
ফোনে এলার্ম দিয়ে রেখে হলেও টাইম
মতো উইস করেছিলাম।
.
অবশ্য দুয়েক বছর পর আর এলার্ম এর অপেক্ষা
করতে হয়নি। নিজ থেকেই মনে পড়েছিলো।
।
বিয়ের পর ইতুর এ পর্যন্ত ৫টা বার্থডে
গিয়েছে। প্রতিটাতেই আমি সময় মতো সব
করতে পেরেছি। শুধু তাই না আমাকে দেয়া
ইতুর কন্ডিশন আছে ইতুর প্রতি জন্মদিন রাত ১২
টায় তাকে নিয়ে সারা রাত এবং ভোর
হওয়ার আগে পর্যন্ত রিক্সায় চড়ে পুরো শহর
যেটুকু পারা যায় ঘুরতে।
আমিও তাই করে আসছিলাম।
খুব বেশি ভাল লাগে সেই সময় গুলো। প্রিয়
মানুষ টা যখন আমার কাধে মাথা রেখে
আমার হাত দুটো জড়িয়ে ধরে গুন গুন করে গান
গাইতে থাকে আর নিঝুম রাতে একাকী
আমাদের রিক্সা টা চলতে থাকে, তখন সত্যি
নিজের ভিতর অন্য এক রাজ্যের অনুভূতির সৃষ্টি
হয়।
।
অথচ এতো সুন্দর একটা মুহুর্তই কিনা আমি মিস
করলাম আজ রাত। কদিন ধরে অফিসের কিছু
কাজের চাপে এতোটাই ব্যস্ত হয়ে
পড়েছিলাম যে আমার মানবীক সুস্থতার
জায়গাটা হারিয়ে ফেলেছিলাম। আর ইতু
টাও এক ফাজিল, একটু আকারইঙ্গিত ও
করলোনা! অবশ্য আজ যখন অফিসে যেতে
মানা করলো তখন ও বুঝা উচিৎ ছিলো আমি
তাও পারিনি, দোষ টা আমার। অবশ্যি আমার।
।
ফুল দোকান থেকে ইতুর প্রিয় সাদা আর লাল
গোলাপের মিশ্রিত তোড়া টা নিয়ে
নিলাম, সাথে করে পাগলি টার প্রিয়
চকোলেট আইসক্রিম, সাথে দুটো শাড়ি। ওর
পছন্দের লাল আর নীল।
শাড়ি পড়তে খুব বেশি পছন্দ করে পাগলী টা।
তবে আজ এতো বছর হলো তবুও সে নিজ হাতে
শারি পড়তে পারেনা। বিয়ের পর যতোদিন
শাড়ি পড়েছে তার প্রতিদিন আমিই তাকে
শারি পড়িয়ে দিয়েছি। জানিনা সত্যি
কি ইতু শাড়ি পড়তে পারেনা নাকি..........
সে যাইহোক, জানার ইচ্ছে আমার নেই, কারন
কিছু জিনিস জানতে নেই, শুধু ঊপোভোগ
করে যেতে হয়।
।
রাত প্রায় ৯টা বাজে। ইতুর যে আজ বার্থডে
তা মনে পড়েছে কিছু পেপারে সাইন করতে
গিয়ে ডেট লিখার সময় বিকেল তিন টায়।
অথচ ততোক্ষণ আমি ঢাকার বাইরে অফিসের
কাজে। সব কিছু জাস্ট হালকা গুছিয়ে নিয়ে
বাসার দিকে পা বাড়াতেই বিকেল হয়ে
গেলো, আর আমাদের শহরের বিখ্যাত জ্যাম,
সব মিলিয়ে সময় আমায় রাত ৯ টায় টেনে
আনলো।
এর মধ্যে ইতুর সাথে কথা বলতে পেরেছি দু
বার। তার ভিতরে এক বার ইতু ফোন রিসিভ
করেছে আরেকবার আম্মু কে কল দিয়ে ওর
খোজ পেয়েছি, বাকি টুকু সময় একের পর এক কল
দিলেও সে রিসিভ করেনি। হয়তো অভিমান।
তবে ভয় ও লাগছে, আমার বিষয়ে ইতু খুব বেশি
ইমোশনাল, অভিমানের ছলে কি করে
বসে.......
আর ভাবতে পারছিনা।
গাড়ি টা বাসার সামনে ব্রেক কষতেই
দৌড়ে ছুটে গেলাম লিফট এর দিকে। লিফট
এত দ্রুত চলছে বুঝতে পেরেও 5th ফ্লোর কে
মনে হচ্ছে 50 ফ্লোরে উঠছি।
।
বেল চাপছি বেশ কিছুক্ষণ হলো, অথচ কেউ
দরজা খুলছেনা, বুকের পাজর গুলো ছিরে
যাচ্ছে মনে হচ্ছে। ভয়ে এতোই ঘামছি যে
চোখ টাও আবছা হয়ে আসছে। বেশ কিচ্ছুক্ষণ
পর আব্বু এসে ডোর ওপেন করলো।
=আব্বু, ইতু কোথায়??
- বউমা তো ঘরেই আছে।
=কি করছে?
- সে জানিনা, অনেকক্ষণ হলো দরজা
লাগিয়ে ভিতরে গেলো।
।
বাবার কাছ থেকে এ কথা শুনার পর আমি
আরো পাগল হয়ে উঠলাম। ইতু এতোক্ষন রুমে কি
করছে, ও কি.............
.
আমাদের রুমে গিয়ে পাগলের মতো দরজা
ঝাকাতে লাগলাম, দরজা খুলছেনা, খুব
জোরে চিৎকার করতেই দরজা খুলে গেলো,
ইতু দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আছে, ওর চোখ দুটো
লাল হয়ে আছে, আশে পাশে আব্বু আম্মু সবাই
অবাক হয়ে দারিয়ে আছে, রুমের ভিতর
আমাদের ৩ বছরের ছোট্ট মামনি টা ঘুমাচ্ছে।
আমি ইতুকে দেখতে পেয়ে বোকার মতো
দাঁড়িয়ে রইলাম।
-কি হলো? বাহির থেকে এসে এভাবে এমন
করছো কেনো??
=আমি খুব কষ্টে বললাম " কোথায় ছিলে??"
-আমি তো বেবি কে ঘুম পাড়ানোর সময়
ঘুমিয়ে পড়লাম হঠাৎ, এইতো.........
.
আমি আর কিছু শুনতে গেলাম না, সবার
সামনেই পাগলের মতো কান্না করে দিয়ে
জড়িয়ে ধরলাম ইতুকে, আমার চোখের পানি
গুলো গড়িয়ে পড়ছে ইতুর কাধে, খুব শক্ত করে,
খুব বেশি গভীরে চোখ জড়িয়ে নিলাম ইতু
কে, আর শুধু এটুকুই বলতে পারলাম, "খুব বেশি
ভালবাসি তোমায়, হারাতে পারবোনা
তোমায়, চাই তোমায় আমি জীবনের চেয়েও
বেশি"..
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন